Sunday, September 6, 2009

বৃষ্টিপর্ব

জল ফুটছে করতলে, ঠোঁট ছুঁয়ে উড়ে গেছে মেঘ— সুন্দর! মনে করো আমরা যে পথ ধরে হেঁটেছি তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে দৃশ্যাবলি যত
বোবাস্মৃতি সেজে। তবু কেন যে ছুঁয়ে দেখার আগে বৃষ্টিপর্ব শুরু হলো
না অজল চোখে

পাত্রের গায়ে লেগে আছে তৃষ্ণা, বাকিটুকু শৈবালে-তোমার মুগ্ধতা
আড়ালে-আবড়ালে মেঘের কালে… অবাক হবার কিছুই নেই বেদনাত্ন চোখে, ভোররাতে হাত বাড়ালে যদি ঝড়ো হাওয়া ফিরে আসে পুর্নবার ডালে-ডালে। পাতায় তুলে রাখি ছায়া শুকনো জল দেই ঢেলে সামনে দাঁড়ালে জলে ঘাম পুড়ে করতলে তোমার চোখে শ্রাবণের ঢল নেমে এলে



কার স্পর্শে যেন মিশে যেত হাত; চুষে নিতে জল ম্লান চোখ দু’টি
মিশে যেত হাওয়ায়-আবহাওয়াপাড়ায়। উড়ু হাওয়া বলুক রোদের
তীব্রতা খেয়ে গেল কে? আর্দ্র হাত দুটি কার আয়ু গুনে রাখে মনে-
রোদ কুড়ানোর ছলে তুমি লুকোবে আজ কার খোঁপায়। যদি ফিরে
আসে ওই দুটি হাত কলঙ্কফুল গেঁথে আমি গুনে নেবো স্মৃতি একা পেলে


জলে স্বপ্ন লুকানো বলে ভাবিনি এতসব জল অবলম্বনে জেনেছি স্বপ্নফুল
কবে ফুটেছে ঝরেছে তুমি জেগে ওঠার আগে- তাই জল ছুঁতে ভয় হয়,
বসে থাকি পেখম মেলে— আমি জল কখনো জমতে দেব না আর্তচোখে
ঢল নেমে এলে শোকগাথা যতসব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেবো ছত্রাকে-শৈবালে

৩০শে জুলাই

আজ তোর জন্মদিন! আমার তারও ঢের পরে তাই একটি নক্ষত্র ঝরে গেলো; উড়ে গেলো দিঘীর পাড়ে
কি দেবো আজ তোকে— গোলাপ-কাজল নাকি কংকন
তুই বোবার মতো তাকালে মুখ ঢেকে মুছে নিলে
                                                শুকনো চোখের জল


তোকে কাল চিঠি দেবো তাই বৃষ্টিভেজা আজ কাগজ কলম
জন্মদিনে যত্ন করে রাখিস; স্মৃতিসহ ওই বোবা পুতুল


আমি তো দূরে চলে যাবো-দেখবো না কভু আর তোর মিষ্টি মুখে
হাসির ফুল জানিস্ সে কথা ভাবলে ভোররাতে আমাকে
জাগিয়ে তোলে তোর মোলায়েম গালের তিল

কুড়ানো পাথর

একারে মিশে আছো; জবাকুসুমের আশায় তাই কলঙ্ক শুয়ে আছে মধ্যিখানে— পড়োশি পাড়ায়

তোমার অপেক্ষা কেবল জিলিপি প্যাঁচেই জানে
একদিন কি যেন বলেছিলে অনিচ্ছায়; কানে-কানে

অবশেষে কুড়িয়েছি নুড়িপাথর বিচানায়; খাটে

ইচ্ছে

আজ আমি জল শুকাতে দেবো না রোদে
আজ তবে বৃষ্টি নামুক তার মতো করে
আজ একাই ছিঁড়ে নেবো এক টুকরো জল
তুমি কি আমাকে অর্ধেক রোদ পোহাতে দেবে?

কাল তোমাকে আমি ছায়া এনে দেবো—
তোমার হাতের কাছাকাছি অর্ধেক রেখো
রোদটুকু ফেরৎ পাবে

আবার তোমার কাছ থেকে মেঘ চেয়ে নেবো
আজ না হয় কাল— অবধারিত বৃষ্টি এলে

ব্যবহার

রমণীর যন্ত্রণা যতটুকু বুকে কল্পনায় তার অর্ধেক নয় তবু তুমি সাদৃশ্য খুঁজে চলো বাক্য বিন্যাসে ক্রিয়ায়

শব্দ তরঙ্গে স্তব্ধ তুমি-চুমু খেলে শির-শির দেহ কঙ্কাল
আমি ব্যাকরণের পাঠ নিতে এসে দেখি তুমি; তুমি আগুনের মশাল

ধ্বনি-বর্ণের ব্যবহার যেন ঘুমন্ত লিঙ্গের দীর্ঘশ্বাস
ছায়া কুড়োতে এসে দেখি তুমি শিখে ফেলেছো সমাস-বিন্যাস

তুমি যতই সন্ধি বিচ্ছেদ করো; এখনো কারকের ব্যবহার শিখনি
ভাষা শিখিনি আজো; শুধু সন্ধ্যানে ফিরি; এ কথা কভু তোমাকে বলিনি

বেলা-অবেলা

যতটুকু বিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো তাকে অনুসরণ করো— কিংবা অনুকরণ করে
কখনো কি ছুঁয়ে দেখেছো হাত, ছায়া মেপে—
প্রকাশ করেছো কি কভু গেঁথে রাখা চোখের ভাষা?
তবে কেনো দৃষ্টিস্ফীত করে খুলে রাখো চোখ আর
আউলা চুলে শুকাচ্ছো জল যেন ঝরে পড়ছে জলজ উষ্ণতা

তোমাকে জাগাতে এসে ভুলে গেছি স্বপ্ন দেখেছি কবে
ওসব বললে হেসে ওঠো বাস্তবতাটুকু
                                            মেনে নিতে পারো না

ফুলপাথর

পাথরের ঘর্ষণে পাথর ফুটুক, অনড় চোখে তোমার স্পর্শ ছাড়া একাকী দীর্ঘ সহবাস ছেড়ে উঠুক স্বপ্ন
                                                           তার মতো করে
ফুল তবে ফুটুক কারো স্পর্শ ছাড়া নিঃস্ব দায়ভার রেখে
ঝরে পড়ুক তুমি ছুঁয়ে দেখার আগে ডালে-ডালে

তোমার দু’হাতে ঝরাফুলের হাসি নিয়ে ফিরেছো; জড়ো করছো
দু’হাতের ঘ্রাণ— আমি তো যত্ন করে কুড়িয়ে এনেছি
                                                    গোলাপের কলি বহু আগে

স্পর্শ করিনি তবু পাথরের ঘর্ষণে পাথর কাঁপে
ফুল ফোটে নিভৃতে ঝরে পড়ে তার মতো করে রোদের তাপে
আজো বাঁধা আমাদের মতো হাজারও প্রাণ সেই পাথর ঘর্ষণ—
                                                              আর ফুলের কাছে

পরিতাপ

পরিতাপের ভাষা জানা নেই; তুমি দাঁড়িয়েছো কপাট খুলে তাই বলে কি— স্পর্শদোষে দীর্ঘশ্বাস ছুঁড়ে ফেলা যায়
                                                         কারো প্ররোচনায়
একা ঝুলে আছি চিরতার ডালে দু-জনের স্বপ্ন খুলে
তুমি পায়ের পাতায় গেঁথেছো কন্টকফুল; ক্ষতহাত
সবই জানে— তুমি কি জানো, তোমার চোখের সৌন্দর্য
কীভাবে ঢাকা পড়ছে এক্সট্টা চশমার ফাঁকে
দূরত্ব কতটুকু জমা রেখেছো বলো ঘূর্ণন বাতাসে

পরিতাপের ভাষা তালুবন্দি করো; কপাট খুলে ওইখানে
আমি তুলে নেবো বুকে জমা যত অস্থিরতা রাত্রিবেলায়; অতি গোপনে

অভিমান

শীতল বাতাসে শিহরণ তুলে… অশ্রু জমেছে দীর্ঘরাত, তবু নিদ্রা জাগেনি ঘুরতে-ঘুরতে কিনারে ঠেকেছে বাতাস; সহস্র রাত্রি কুড়োনো স্মৃতি শুধু বৃষ্টির জন্য কিনি

বাতাসে শরীর ছুঁলে কপালের ঘাম মুছে নাও পাশাপাশি বসে আমার শরীর জুড়ে ঘামের গন্ধ; মনে করো জমেছে তোড়া-তোড়া দীর্ঘশ্বাস

দূরে তাকালে রোদে পুড়ে চোখ; তুমি দূরে রাখো ঠেলে
বাতাসে শরীর ছুঁলে উড়ে যায় স্বপ্নফুল এই তো দলে-দলে
আমি তো বাঁধা পড়েছি বৃষ্টির জলে নয়, তোমার ঘনকালো চুলে

ভয় ছিল তবু ছুঁয়ে দিতাম ডানাওয়ালা চুল
চুলের পরিখা, তুলে নিতাম গোছা-গোছা ঘ্রাণ
হাত ফসকে গেলে মনে হতো কার বুকে জমা রাখা
                                                       চাপা অভিমান

জল কুড়ানো দীর্ঘশ্বাস

একাকী বাড়ি ফিরিনি কভু বৃষ্টিপাত হলে তুমি বলতে— ভাদ্রমাসে শান্ত পুকুরের জলে
শুয়ে পড়ি এসো; লাজ শরম ভুলে

দীর্ঘ অপেক্ষা তোমার; দীর্ঘশ্বাস কুড়াও জলে

সংকট

রোদ সংকট পুড়ছে ছায়া তাই আমার দু-হাতে জমেছে খরা তোর দু-চোখ বিভোর সোনালি স্বপ্নে; আমি আজো স্বপ্নহারা

আজ মুঠো ভরে রেখেছি অশ্রু-তোর চোখে পরাবো কাজল
তুই দাঁড়ালে না পাশে মুঠো খুলে দেখি অশ্রুতে ফুটেছে কান্নাজল

জ্যোতি

যাদের চোখে জল; তারা বুঝে বুকজ্বালাস্মৃতি
দুঃখ ভুলে যেতে জানে না— খুঁজো ত্রুটি-বিচ্যুতি
তোমার তাকানোর রহস্য দেখে ফেটেছে চোখ
ঘূর্ণিপাকে ফোটোনি তুমি; ছিঁড়েছো চোখের জ্যোতি

হাত

হাত ছুঁয়ে দেখো ঋণ নেবো না; গেঁথে নেবো কাজলসহ দু-চোখের কান্না হাত খুলে দেখো জীবন দুর্ভাবনা; স্বপ্ন কিছু নয় নামমাত্র বালুকণা
হাত ছুঁতে করোনি মানা— পূর্ণ করোনি কখনো দেনা-পাওনা
হাত মেপে দেখো দিনা; জলের মতো ঝরে পড়ছে সব অনুশোচনা

হাতে হাত রাখো পূর্ণতা পাবে— দূর হবে তোমার মনের সবটুকু ঘৃণা








কাঙ্ক্ষা

তুমি নীল আকাশে চেয়ে থাকো অবিরত আমি মেঘের গর্জনে কান পেতে বসি


ধুলোরঙে হাওয়া বয়ে চলে-তবু বৃষ্টি হয়নি
তাই দরজা পাশে দাঁড়ানো একমুঠোরোদ
                                         পেখম মেলে
যদি ঘুম ভেঙে যায় তারা গুনে জমা রেখো হাতে

১১সেপ্টেম্বর

চোখ বুঁজে যা কিছু দেখি— ভালো লাগে খুব
আহ! কি সুন্দর দেহ-লতা রুগ্ন নাভিখানি
পঁচিশ তো পার হয়ে গেলো কে তা জানে
হাড়ে ফুটেছে যন্ত্রণা, তাই কুঁজো হয়ে বসি—
                                      দিবারাত্রিমধ্যদুপুর

কার নাম ভালোবাসাবাসি; বাকিটুকু সে শুধু জানে
বৃষ্টিপাত হলে কেন? কেনো জানি বুকে জ্বালাতন বাড়ে

যা দেখি ভালো লাগে খুব, ভালো; আরো ভালো রাত্রিদ্বার
গুনে রাখা স্মৃতিগুলো মনে হয় রূপকথা— হারানো সংসার
শেষটান ছেড়ে দেখি বুকে ব্যথা বেড়েছে দ্বিগুণ;চোখ ঢাকা ঘনঅন্ধকারে ঘোর কেটে গেলো কবে— জেগে দেখি তুমি মুগ্ধ করেছো দেহ চুপিসারে

বৃষ্টি বিষয়ক একটি

চারিদিকে স্ফূরণ, অবিরত ক্ষরণ…বিস্ফোরণ
কার লাগি লিখি এই রাত্রি বরিষণ
মূলত সুখটাই বাস্তব জেনে এগোলে পথ পদতলে পৃষ্ট হলো বরষাক্রান্ত রাত আমি প্রলম্বিত হয়ে কেবল দূরত্ব আঁকি—আর তুমি ক্রমশ ঘোর রাত্রিতে স্বপ্ন বুনে যেতে চাও অবিরত মোহে; ফলে ধনরত্নে গুঁজে দিলে মাথা কাল মুষলধারে বৃষ্টি হয়নি বলে ফিরে এলে তুমি— গতিপথে এঁকে দিলে সব স্তব্ধতা
♣♣
অবিরত খুলে নিতে দেহের শরম তুলে নিতে ঘ্রাণ যেন শস্যদানা অসময়ে গেয়ে যেতে শ্রীকান্ত-মৌসুমীর গান(আবার যেদিন তুমি সমুদ্র স্নানে যাবে… বৃষ্টি তোমাকে দিলাম) এখন সুরের মুর্ছনা অন্য পথে চলে— তাই রোদে গড়িয়ে পড়তো জল, কল্পনা যেন সমুদ্রস্নান; হেসে উঠতে তুমি স্বপ্ন নিয়ে বুকে, জ্বলে ওঠে ক্রোধ যেন তোমারই নিজস্বতা। দেহ থেকে খসে পড়ে ঘাস; বেদনাগুচ্ছ বুকে হেঁটে চলে অবিরাম-দেহ ছুঁয়ে দেখো কীভাবে চৈত্রে ঝরাপাতার মতো দেহ থেকে উড়ে যায় মর্মর সুর, তুমি না ছুঁলে দেহপোড়াযান
♣♣
রঙিন স্বপ্ন নিয়ে আকাশে উড়বে সে কথা বলনি কভু; ভালো নেই আমি—তবুও ভয় জাগে মনে, কেননা চেয়ে দেখো দূরে তোমার জন্য আঁকা দূরের বনে; স্বপ্ন নয়— নীরবতা। আকাশ ভর্তি কালো মেঘ কার চোখে ফোটে; তোমার চোখে ফোটে তাই বাতাস ভর্তি ছায়া। মাতাল আমিই সেজেছি তাই গাঢ় জলে পুড়ছে বুক জ্বলছে ঝাউবন, ।অপেক্ষা কেবল ফিরে আসা নিয়ে, সুতো ছিঁড়ে গেলে তো মুছবে না কভু কারো আঙুলের পোড়াক্ষতদাগ
♣♣
স্মৃতিঘোরে উড়ে যেও যদি দূরে ভাসে স্পর্শরীতি শুধু বুকের কাপড়টুকু বাদে সবটুকু উড়াতে করো না মানা— লক্ষ রাখো তোমার বুকে জমা রাখো আমারই স্পর্শে আঁকা পূর্ণিমার চাঁদ… কেননা ঘনঘোরে নির্ঝর বনে অধিকার অধিকার শুধু আমার; একার। তাই জলপূর্ণ কাঙ্ক্ষায় কেঁপে ওঠে দিঘীর পাড় দীর্ঘরাত্রির অপেক্ষা কেবল ক্ষয়ে-ক্ষয়ে যায় তবু তুমি খুঁজি ফিরো কালো চশমার ফাঁকে শূন্যতার ছায়া।


তাই দুরত্বে গেলে দেখো শংকিত দেহের ভাঁজে ফুলে ফেঁপে ওঠে দেহের হাজারো দীর্ঘশ্বাস
♣♣
জানি এগোলে পথ খোলা নেই; চোখে আঁক স্পর্শরীতি বাদে উপেক্ষিত রাত তাই দূরে দাঁড়ালে তুমি তিন হাত পরে— দূরে গেলে বলে যেও হাত রাখি কই, আঙুলের পোড়াক্ষত দেখনি আজো সে-কথা স্মরণে এলে তৃপ্তি ভেবে খেয়ে ফেলি সিগারেটের অবশিষ্ট ছাই। জানি পালাবার পথ খোলা নেই, তাই ডুবোরাত্রির কাছে তুমি ডুবে গেলে ডুবো সন্ধ্যা আমার। খড় কুঠুরি যাই ভাবিআসলে নির্জনতাই মূল; তুমি হারালে ভালো চাওয়া র’বেনা কভু স্বপ্ন একাকী পড়ে রবে দূর্বায়
 ♣♣
আমি লুকাবো বৃষ্টিপাত হলে কত আগেই বলেছি সেসব কথা ফলে তুমি লক্ষ রেখেছো হাতের স্বপ্ন; তাই গতিপথে কোথায় লুকিয়েছে তোমার দুটি পা।আমি স্মৃতি কুড়নোর আগে খুঁজেছি তোমায়; তুমি ভান ধরে হেসে
ছিলে দূরে— তাই ফের তাকালে দেখি তোমার বুকের বিষণ্ণতা এখনও কাটেনি— সহজ-সরল চোখ যেন শূন্যতায় ঠাসা। আর এখন যতসব ঘটে মনে হয় সবই ছিল বির্বতন স্মৃতি তবু; তবুও তোমার চোখে নেই জল বৃষ্টিপাত হলে আমিও আর কাঁদবো না
♣♣
বার-বার বলতে আমার আর সহ্য হয় না; আজোবধি জানা হলো না—
কে কার কাছে বাঁধা পড়ছি আগে; কতটুকু হয়েছি ঋণী— একটু বলো
সে-কথা শুনতে ভালো লাগতো খুব;কখনো বিব্রত বোধ করিনি বলতাম প্রশ্নের রহস্য কী খোলাসা করো— হেসে বলতে এই মনে করো সকাল-সন্ধ্যা; দুপুর কিংবা রাত জোক করে বলতাম তবে বাজি হয়ে যাক্ তুমি তা মানতে বার-বার নারাজ। অপারগ হলে বলতাম সবার
অধিকার একই রকম; সবাই একই বৃত্তে ঘুরে ফেরে চলে কিংবা মনে করো স্পর্শ পেলে লোভ বেড়ে যায়… দেহে কম্পন তুলে সমান-সমান
♣♣
কাচ, উড়ছে নিমপাতা পুড়ছে দেহ জাগা গাছ— তোমার স্বপ্নে ডালে ডালে দুলছে আধাপাকা আম। কারণ ছাড়াই বলে উঠতে হঠাৎ আমার শরীর ছুঁয়ে দেখো কাঁচা মাংশের গন্ধে ভাসছে বৃষ্টিবর্ষারাত। আমি তো রাত্রিকে জড়িয়েছি দেহের ভাঁজে;দেখবো পুরোটা মেঘে তবু যদি লোভাতুর চোখে কখনো জল তৃষ্ণা জাগে মেঘের গুঞ্জনে সোজাসুজি বসি তাই মৃদুকম্পনে হাসছে রোদ, কাঁপছে জানালা
♣♣
আমি কি জানতাম বৃষ্টিফোঁটায় জ্বলে যাবে স্মৃতি-লিখে নেবো চোখে
যত বদনাম। ডাল-পালায় উড়ে যাবে কথা; পাতায়-পাতায় ঝুলিয়ে দেবে দ্বিধাদ্বন্দ্ব যত সাথে তুলে নেবে মান-অভিমান। তবু রাগ করো না; ধুলোয় মিলে মিশে থাকো— হয়ত একদিন বৃষ্টিও রোদে ফেটে যাবে
আমিও সে-দিন জল কেটে লিখে নেবো রাত্রিকাহন
♣♣
চোখের শরম কি খেয়ে নিল কেউ একবার বুকে হাত রেখে বলো
ওজন করো; দেখো কার দেহে কত আছে ঘূর্ণিপাক। দেখো কার স্বাদ
কেমন লাগে; কার দেহে ফুটে আছে পোড়াক্ষতদাগ। তাই তুমিই বলো
এবছর কি ফিরে আসা ভালো— ফিরবে কি কেউ আমার মতো করে
ব্যর্থ অভিযোগ নিয়ে; তুমিও তো সব ছেড়ে চলে গেলে দূরে; পুড়ছি
তাই চৈত্রের তাপদাহ রোদে আমাকে ঘুমুতে দেয়নি তোমার বধু বেশে
বেজে ওঠা বিয়ের সানাই
♣♣
আমি গোপনে ধূপ জ্বেলে রাখি; স্মৃতি সব পোড়াই
ফলে খরস্রোতে মিশে পড়ো তুমি— আমি শুধু বাতাসের
শব্দ জপে বৃষ্টিকাঙ্খায় একা বসে থাকি। জানি স্বপ্ন
সাজাতে কেউ আসবে না আর… তোমার জন্য প্রতি রাতে
একটি করে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখি

দেহপোড়া গান

যদি শুকনো পাতায় স্মৃতি মেলে ধরো আমি তবে স্বর্ণলতা গাছের মর্মর গিলে
তৃণলতায় বসে গেয়ে যাব গান

দেখবো কার মুখ থেকে বেরোবে লোনাজল
কারা পুড়ে গেছে আগে

কার জন্য তোমার দেহ পোড়ে অবিরত

পা

পা ডুবিয়ে রাখি কাদায় টেনে নাও— ফলে ধারে কাছে জমেছে শ্যাওলা; খুঁড়ে দাও তল
                                                সাতরঙাজলে
ডরভয় জাগে তবু কেটে ফেলি জল
চুলে বেণী বাঁধা নেই, তবু বেড়ে ওঠতে দেখি
                                   হাত পায়ের নোখ
যদি টেনে নাও জলে বাঁধা পড়বে তল
তাই গোপনে ডুবিয়ে রাখি কাদা-জলের ফাঁকে
                      তোমার অর্ধেক পা

দ্বিধা বিষয়ক আরো একটি

আমাকে চূর্ণ করতে এসেছে ডাঙর চোখ নাকফুলজল আর উড়ন্ত চুলের হাওয়া হাতের কঙ্কন মৃদু সুরে বাজে— হৃদে কম্পন তুলে নির্বাক চণ্ডাল
সেজে দণ্ডিত হই; গোপন শ্বাসনালী ফুলে-ফেঁপে ওঠে চোখ ভরে দেখি
মনে-মনে জপি গীতা-বাইবেল— অসংখ্য সুরা। প্রার্থনা করি আমাকে
স্বর্ণাভ করো প্রভু…


তবু যদি মিশে যায় স্রোতজল বেয়ে, যদি লবণাক্ত জল চুষে নেয় কেউ
ক্রমশ ম্লান হবে তুমি। তাই ভয়ার্ত কত চোখ সাগরের জল বেয়ে ওঠে।আর আমি জলের কাছে লুকাবো বলে স্নান ঘরে আসি মনে সংশয় দ্বিধা;তবে কি আমি ভুলে যাবো সব ঘুমোবার আগে তুমি আজো বলনি ওই পথ ধরে হেঁটে গেছে কারা? আমাদের আগে


আমি লুকাবো কি জলে একবার সম্মতি দাও— স্পর্শ করো না কভু শরীর গুপ্ত সীমানা।তবে কেনো জড়তা নিয়ে জেগে রবে তুমি ঘোররাত্রি পাড়ে তাই নৈঃশস্দ এগুলো হাত তোমাকে ছুঁয়ে দেখার আগে আঙুলের পতন হল পিচলে স্মৃতি-স্বপ্নসহ চুম্বনের দাগ, কপালের ভাঁজে-ভাঁজে তোমার অসংখ্য রোমাঞ্চ


আমি তো ওই পথে চোখ খুলিনি, তুমি তাকিয়ে আছো গভীর ধ্যানে—তাই নিরবধি জপি যেভাবে শিখিয়েছো প্রেরণা কাকে বলে; কখনো ভাবিনি কতটা দূরত্বে দাঁড়ালে তুমি— বোবাজলও কাত হয়ে শোয়। তাই নিজস্ব আগ্রহে লুকিয়েছো মুখ; মুখের প্রীতি। ফলে ভাসা ভাসা বিজুলি সংকেতে ফেটে যাবে চোখ; চোখের জ্যোতি। তুমি ফিরবে না জেনে সবটুকু জল জমা রেখেছি পথের ঠোঁটে



অঙ্গগুলো মৃদু দুলে ওঠে জলপথ হেঁটে ছেঁকে নেবো মৌ… তুমি জলের পাশে খুঁজে ফেরো বাষ্পদানা; তার আগে শূন্যে উড়ে গেছে ঘ্রাণ বরফের কাছে গলে-গলে পড়ছে জলস্পৃহা। তাই নিরবধি জপি দ্বিধালিপি যত তোমার শূন্যতা জমা রাখো গাছের আড়ালে ওই জারুলের বনে। আমি তো একাকী জেগে আছি আড়ালে; সাতাশটি পাতার ফাঁকে। দ্বিধা যত জমা থাকুক বুকে



এবার তুমিই বলো রোদ আজ কোথায় দাঁড়ালো; আলো ফোটালো কার গায় তুমি আর কতবার শরীর পোড়াবে রোদে। রোদে পুড়িনি কভু তবুও তোমার রোদের তৃষ্ণা মিটেনি। রোদের তীব্রতা জড়াতে চাও পায়ে, আমি রোদবিহীন জ্বলে পুড়ে সেজেছি কয়লা— অবশিষ্ট স্পৃহা যত গেঁথে রেখেছো হাতের রেখায়



তবুও জানি মেঘের ঘনঘটা হলে মেঘাচ্ছন্ন দিনে তোমার কাছে বেড়ে যায় রোদের কদর, তাই আঁধার ঘনালে পাশ ফিরে দেখো ধ্রুবজলছায়া- জেনে রাখো ঘোরপ্রবণ রাতের কাছে কারো দায়ভার নেই,কখনো তাকবেও না



হাত ছুঁয়ে দেখো কতটা পাথর হলো বুক, ফুটে ওঠে জিভ তৃষ্ণার্ত ঠোটে
আর তুমি ঠোঁট ছুঁয়ে দেখার ভান করে লালা জলে খেলা করো গালভর্তি দীর্ঘশ্বাস ফেলে— তাই তোমার তো জলের কাছাকাছি যেতে মানা



এখন শুধু নীরবে জপি প্রেরণা কাকে বলে— আর কখনো যাবো না
তোমাকে দূরে রেখে রোদ-জলের পাশে

বিরামহীন বুক

কার ইশারায় শঙ্কিত হও— পুঁতে রাখো হাড়গোড় অন্তিম হিমে আমি পাহাড়ের গা ধরে হেলেদুলে খাঁড়া হতে থাকি তুমি মুখ ঢাকতে গিয়ে
দৃষ্টি খুলে রাখো দূরে চোখ তুলে ধরো দেখো কতটুকু গুঁড়ো গুঁড়ো
বৃষ্টি হলে রাত্রি কৌতূহলে রাড়ে যদি ফিরে এসো একসাথে ডুবে যাব
ঝরনার জলে দেখবো কত স্মৃতিচিহ্ন জমা রেখেছো বিরামহীন বুকে

বিষফল

তলিয়ে যাবার ভয় নেই, তবুও জলকলহের আগে কুটে-কুটে তুলে নাও আরো কিছু জল; জ্বলে পুড়ে
তাপভষ্মদেহ— তোমাকে ছুঁলে বৃষ্টি শুকিয়ে হবে মৃতদেহ কংকাল
তাই রোদফুল কুড়োতে যাব কি না ভেবে জাগে কৌতূহল
আমাকে জাগিয়ে তোলে শতবর্ষের বেদুইন সকাল
হাতে তুলে রাখি আধোজাগা স্বপ্ন; তুমি ফিরবে না কেবল…

ঘোরবৃষ্টিদিনে চোখে জল নেই; দিকে দিকে ছড়িয়েছে বিষফল

জলফল

চোখের পাতায় জমেছে স্মৃতিক্লান্ত ভুল ফলে আগে-পিছে জমেছে বিন্দু বিন্দু জল
তুমি বলো চেয়ে দেখো ফুটেছে জলফুল
তুলে আনতে দেখি গেঁথে নিয়েছো খোঁপায়
তাই চুলে ঝরেছে জলফুল; জলে ভাসছে নাকফুল প্রীতি
তুমি যখন ছিঁড়ে নেবে জল; আমি গুনে রাখবো যত দুর্গতি

জাগতিক পাতা

বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে যত জল পড়ে
ঠোঁটে তুলে রাখো যদি কখনোও তৃষ্ণা বাড়ে
একটু পরে যখন উঠোনের ঠোঁটে
চুম্বন দিলো বৃষ্টির ফোঁটা ফোঁটা জল
তখন তোমার কল্পনাগুলো লাফ দিয়ে উঠে গেল
ফণা তুলে হেসে গেলে তুমি, সাথে মুচকি হাসি
দেয় জানালার গ্রীল আর আতশি কাচ
যতটুকু বৃষ্টি হলে ঘিরে রাখো শূন্যতা
বাকিটুকুও রেখে দিও সময়ের কথায়





জলকাহন

আমাদের জলকলহগুলো জড়িয়ে উঠেছে কচুরিপানার মূলে—
হাতে-হাতে উঠে এসেছে জলজ শাপলা আর
ক’ফোটা কলঙ্কিত জল তবে ইদানীং কেন
জল ছুঁতে গেলে অযথাই সংশয় জাগে

অথচ তুমি সেই কল্পিত সুরে কথা বলো
যেন সব স্বপ্ন লুকানো ছিল আমাদের কায়ায়…

আর— আমি জলাধিকার প্রশ্ন খুঁজতে রয়ে যাব জলে
এতে তোমারও প্রণিধান রয়ে গেলো জলের দিকে

আবছায়া

জলে ভাসে জল, চোখ হয় লীন রহস্যে ঘিরে রাখো সব, স্থির থাকে মায়া
রাত্রি গভীর হলে ঘুরে আসে যে মুখ
সে কি তুমি?

দক্ষিণে সমুদ্রমহাল, উত্তরে আবছায়া...

চিহ্ন

কত আগেই তো বন্ধক রেখেছো শরীর শুধু দ্রবণের ক্ষরণটুকু বাকি, মুঠোভর্তি খাম
তাই রক্তে লবণ চুষে খায়; মুঠো খুলে দেখি
আমার স্বপ্ন আঁকা পাখিদের ঠোঁটে

গাছ গোপনে রস টেনে নেয়
পাতা মেলে ধরে তার করুণ স্মৃতি
স্বীকার করি— আপত্তি যত সময় আর সুতোর ধারে
অনিদ্রায় আঁধার ঘনালে তুমি দেখি বহুক্রোশ দূরে

অন্ধ

চোখ বুঁজে অন্ধের ভান ধরে থাকি দেখি অন্ধ হলে, চোখ কোথায় পালায়
হাতের আঙুলগুলো প্রসারিত হলে দেখি
নিশ্চুপ তুমি— দাঁড়িয়ে থাকা গাঁদাফুলের টবে

অন্ধকার নিরবতায় ঢাকা! দূরে রঙ-তুলি
ফলে
জলে কাটে জল ডরভয় জাগে, শরীর মৃদু কাঁপে
চোখে খুলতে ভয় হয়— চোখ যদি ফেটে যায় জলের তাপে

সময়

সময় উড়ে যায়, নদী কথা বলে এ দৃশ্য মিশ্রিত হলে, হয়ত পাস্তরিত হবে
ভেসে যাওয়া স্রোত কিংবা ডুবাজলের ধারে
আমি চরে ভাসি দূরত্ব মেখে
তুই দাঁড়ালে নদীও হাসে— ভাবনা ফুরালে

লাল-নীল-বেগুনী হাসি পদে-পদে তিরস্কার করে
আমিও তার দানা খুঁটে খাই, চিবুতে থাকি ধীরে
দৃষ্টি ফেরালে কেউ চোখ মোছে, কাজল মেখে
কেউ জড়িয়ে ধরে নদী— স্রোতের বিপরীত স্রোতে





সম্ভাবনা

চৈত্রমাসে পলাশ ফোটে পাতার বর্ণ হয় ধূসর ভ্যাপসা গরমে তৃষ্ণার্ত আমি কামনা করি বৃষ্টির
আশায়-আশায় স্বপ্ন জাগে তাকানো যে দৃষ্টিকাতর

ঝড়ের গতি বেড়ে গেলে গাছগাছালির করুণ সুর, মর্মর
বৃষ্টিতে কার না ভালো লাগে, ভাবনা জমা অষ্টপ্রহর
ছায়াকে যখন কামনা করি— হেসে ওঠে রোদের প্রখর

আবার যখন তৃষ্ণার্ত হবো ঢেলে দিও জলের আদর
চোখের জল শুকিয়ে গেলে জমা পড়বে লবণের স্তর

নাকফুল

আজ মেঘে মেঘে হাসছে আকাশ কাঁদছে ফর্শা বাতাসের সই
কাল তার চোখে দেখি শ্রাবণের ঢল
ঘনঘোরে কাঁপছে জানালার কাচ
ফলে উদ্দেশ্য যত ফুটে ওঠে দানাবাঁধা মোহে
স্বপ্ন হারালে বুঝি উড়ে যায় আউলা চুল
মৃদু মন্ত্রে ঘামছে শরীর, দুলছে নাকফুল

মেহদির রঙ

বৃষ্টিতে ঝরে পড়ো, ভেঙে দাও দাগ                                      নির্বাক চোখে
স্বীকার করি স্বাভাবিকভাবে তুমি—
তুমি যেন দেহজাগা গাছ
ত্রত যে ঘুরে এসো আড়াআড়ি পথে
পথে যে রয়ে যায় সংশয়— নিস্পৃহ রীতি

নামবো কি জলে উড়ু হাওয়া বলুক
পাপড়ি ছিটানো হলো কার বিপরীতে, ফলে
বৃষ্টির দু’হাতে আজ দেখি মেহদির রঙ

মেঘ বৃষ্টি বরিষণ

যেতে যেতে                  বাঁধা পথে
           যারা চিনেছি জীবন
জেগে ওঠে                 তোর ঠোঁটে
              একই সহমরণ
থিতি জনা              যত কণা
         ফিরে আসে যায় চোখে
মানুষ কি                বন্য নাকি
           এসিড ছুঁড়ছে মুখে
গূঢ় কথা                  ঝরে পাতা
         ঝরে যায় যত স্মৃতি
রোদ ছায়া              কত মায়া
         মানুষ আর প্রকৃতি
যত আশা             চোখে বাসা
       একা চলে একা উড়ে
বাড়ি ফেরা              ভ্রান্ত যারা
           চলে গেছে যারা দূরে
যেতে যেতে              বাঁধা পথে
           থামা হবে একদিন
বহুদূরে                    যারা ফিরে
       মেঘ বৃষ্টি বরিষণ

২০শে জুলাই ২০০৫

তোর কান্নার জলকণাগুলো থরথরিয়ে কাঁপছে                                     চশমার ফাঁকে
চুষে নিতে পারেনি মোলায়েম গালের তিল
আমি কখনো তোর কান্নামুখ দেখতে চাইনি
তাই অশ্রু ছাড়া আর কিছু গোপন করিনি

তবে আজ কেন তোর চোখে গড়িয়ে পড়বে জল
মুছে দিতে মানা করলে, ছুঁড়ে দিলে অসংখ্য ফরিয়াদ

জল ও গুহামুখ

জল তুমি গড়িয়ে পড়ো চৈত্রদাহ রোদে দেখো আমার চিবুক রাখা বৃষ্টির ঠোঁটে
আরো কিছুদিন তোমার চোখের গোপনতা
দেখতে যাবো যে যা-ই বলুক, অত-শত বুঝি না

জল তুমি উড়ে এসো শ্রাবণধারায় বাধা দেব না


২.
তুমি যাও দূরে ওই দূর বনস্পতির দেশে
আমি তো বেশ আছি, ভালো আছি—
                                             ডুমুর সেজে
স্মৃতি যত পাথর চাপায় দুলছে ডালে-ডালে
তবু স্মৃতির নিকট হয়ে গেছি বিমর্শ তালগাছ
তাই প্রতি মুহুর্তে মুখ লুকাই গুহার ভেতর

বরফজল

জল কেন তবে বরফ হয়ে যায় আবার দেখি বরফ জলে ভেসে থাকে
বরফ-জলের কি এমন সম্পর্ক যে,
বরফ গলে-গলে জলে মিশে যায়—

সে-প্রশ্নের উত্তর জানা নেই বলে
জলের দিকে হাত বাড়ায়ে দেই, বোধে নির্বোধে
জলের ভাঁজে-ভাঁজে স্পর্শের দানা, মায়া
তুমি ঠিক দেখে নিও আমাদের দেখা হবে
কথা-টথা হবে জলের কাছাকাছি এলে

অনুকরণ

যাবার যে রাস্তা দেখছো সে পথ ধরে হাঁটো… আর শেখো—
চেয়ে দেখো হয়তো কারো পদচিহ্ন
                          রয়ে গেছে পথে
যদি খুঁজে পাও তাকে তুমি থাকে অনুসরণ করো
বাকিটুকু মনোবলে রাখো, চোখ ভরে দেখো

তুমিও তো অতীতে ফেলে এসেছো কত পদচিহ্ন
যদি পারো পেছন ফিরে দেখো; আস্তে-আস্তে খুঁজো

রঙ

আমি অকারণে আঙুলের ফাঁক থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছি জল ছোট-বড় পাতায়
এতে প্রকাশিত হতে দেখি বহু বিষয়, নানান কথা
তাই ফানকচুর পাতায় রেখেছি অশ্রু, আরো কিছু গ্লানি
ফলে নীরবে প্রতিশ্রুতিতে ফুটছে অস্থিরতা, স্বভাবসংকেতে

তাতে দুঃখেরও যদি বহুবিধ আকার থাকে, পরিতাপের
আকার ধরে দূরে চলে যাও, তবে দুঃখের কি নাম দেবো?
জানি না; এখনও পরিতাপের নাম দেয়া যেতো অনেক…
আর আমি যে-জল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছি পাতায়
তার কোন রঙ নেই বলে অশ্রুর রঙও কখনো পরিবর্তন হয়নি
পরিবর্তন হয় না

দূরত্ব

স্নানঘর সম্পর্কে আমার কৌতূহল খুব কম আর জল পড়ার শব্দ শুনত কার না ভালো লাগে; কখনো বৃষ্টির শব্দ ঘুম পাড়িয়ে দেয়, অনিচ্ছায়…
কখনো বৃষ্টি আর জল পড়ার শব্দ নৈঃশব্দে বাজে

যখন ভাবি বালতি আর মগের জল-ব্যবধান আড়াই ফুটের বেশি হবে না আর ঝরনার চোখগুলো আমার দিকে চেয়ে আছে টলমল চোখে, কিন্তু জল আর আমার দূরত্ব মাত্র দেড় ফুট তারচে’ বেশি হবে না

বাতিঘর

যতই স্পষ্ট ছিল বাতিজ্বলা ঘর, বাকিটুকু ছিল শুধু রাতের নীরবতা
তারচে’ রহস্যঘেরা ছিল তোমার হাসিঝরা মুখ আর আড়ালে থাকা
আনকোরা মায়া, কথা।কতবার নতজানু ভাব নিয়ে ঝরাপাতার মতো
ঝরেছে রাতের প্রত্যাশা। তাই বৃষ্টির অন্তরালে চোখ পাতা ছিল…
সহেছি বিজন ব্যথা

২.
বাতিজ্বলা ঘর আলো ছড়িয়েছিল বলে আমাদের কাবু করতে পারেনি
ঠিকই, আমি তো দেখেছি তোমার শরীর থেকে উড়ে গেছে বাতাস,
যেন মৃদু আলোর খেলা। আর আমি আলোর ভেতর রোপন করেছি
গোছা-গোছা স্মৃতির চারা…টের পাইনি যেন আমার পাশে শুয়ে আছে
চেনা সেই রাতের নীরবতা

এক কাপ চা

আজ সবাই সহর্ষ সঘন রাতে কোন জল পান করে, কোন জলে বেশি আশা জাগে… কতটুকু জলপানে মিটেছে পিপাসা।আর তুমি জলের পরিবর্তে আমাকে ঋণী করে ফেলেছো এককাপ লাল চায়ের কাছে। ভাললাগা অতিশয় প্রচল— প্রবাদ…ভালবাসা হতাশাযোজক… ভিন্ন অনুভব হতে পারে,ভিন্ন অনুভব যেতে পারে বলা? সে বোধটুকু জানা নেই, স্মরণে আসেনি কভু মনে পড়ে অবেলায় গেয়ে-ওঠা তোমার সুরেলা গানের কলি, গলার স্বতঃস্ফূর্ততা…
তাই চায়ের কাপে কবেই হারিয়ে ফেলেছি লোভ আর লাল ধোঁয়ার নিয়রে খুঁজছি পুরনো স্মৃতি আর চোখের ভাষা… মূলতঃ চায়ের স্বাদটুকু আমার অ্যালকোলাহলের আকাঙ্ক্ষা জাগায়নি বলে আজও ঋণী আমি ওই এক কাপ চায়ের নিকট

রোদের পুড়ছে শরীর

আমি শুষ্ক হতে গিয়ে আর্দ্রতা খেয়ে ফেলেছি কুয়াশায় দিনে।রঙধনুর সাতরঙা বাহার তখনও ঠিক মনে পড়েনি তবু তুমি রৌদ্রে শুকাতে দিয়েছ জামা।চেনা সেই গোলাপি জামা চু’য়ে চু’য়ে নামছে জল, চু’য়ে চু’য়ে নামছে দিনের দহন ও জ্বালা।সেসব কথা ভাবতে গেলেই ভেঙে পড়ে আমাদের গ্লোবাল স্মৃতির পুরাণ… সূর্য্যমুখী ফুলের মতো দাঁড়িয়ে দেখছি রোদ আর রোদনের কথোপকথন। চু’য়ে চু’য়ে নামছে আরো কিছু জল, দেখো রৌদ্র চুষে নিয়েছে সব জলজামার আদর।রৌদ্রে সবকিছু দেখো কেমন সুনসান… সে-কথা স্মরণে রেখে কতবার শরীর পোড়াতে গেছি

অশ্রু তুলে নেয়া যায় না

সাঁতার শেখোনি তাতে কী, ডুবে যাও জলে ঢোকে ঢোকে গিলে ফেলো সবটুকু জল
শুকিয়ে ফেলো ডোবা-নালা দীঘির ও পুকুর

শুনেছি অশ্রুতে ভেজাতে পারো বুক, শাড়ির আঁচল
আমি জানি অশ্রু দিয়ে রুমাল ভেজানো যায়
রুমাল থেকে অশ্রু তুলে নেয়া যায় না
সময়ের বিবর্তনে সবকিছু হারায়, হারিয়ে যায়
স্মৃতিরা কখনও সখনও দূরে যেতে পারে—
কখনও হারাতে চায় না

তাই বলি সাঁতার শেখোনি তাতে কী, জল তুলে নিতে পারো
কিন্তু তোমার জলের কাছাকাছি যেতে মানা

পথলিপি

ওই পথের রঙ ছুঁব কি ছুঁব না ভাবতে ভাবতে উড়ে গেল পদতল-মাটি আরজলভেজা বালির কথা তবুও বাঁধা পড়তে হলো শুকনো জল আর পিঁপড়েরনিকট এসে অথচ জলপতনের আগে আমাদের ডুবে যাবার কথা ছিলোঝোপজঙ্গলের পাশে, আর ওই পথ ছুঁব না বলেই তখনও আমরা খুঁজেছি বহুবর্ণ পথের ডাঁটা;তোমার কথা শুনে লতা পাতার মতো বোবা হতে থাকিস্বর্ণলতা গাছের মর্মরে...শুনেছি এখনও অতিযত্ন করে গুনে রাখো নীরবতাযেন পত্রলিপিতে কেঁপে ওঠে স্মৃতিপথটুকু...

০২
এখন তুমি পাথরের ফাঁকে হারিয়ে যেতে চাও, পথের সরুপথ ধরে হেঁটেচলো অর্ধনিমীলিত চোখের পাশে কথার মর্মটুকু জানার আগেই প্রস্তরলিপিটুকরো টুকরো করে দেখো কবিতার শরীর,আড়ালবর্তী মুখের আভা; আমিসে পথের ছিপি খুলে স্মৃতি পথ খুঁজি... খুঁজি ধূলিবালির শরীর; আর তুমি অতি যত্ন করে ছুঁড়ে দিলে একটুকরো ঘৃণার সংলাপ... তাই গৃহফেরারপথে হাঁটি, সাথে নিয়ে আসি সাধ করে কিছু নুড়ি পাথরের কণা


০৩
একদিন পথেরও ঘুম এলো চোখে আর আমি খুলতে চেয়েছি তোমারপথের শরীর--- লাফ দিয়ে ওঠে দাঁড়ালো চেনা সেই মুখ, জ্বলন্ত তৃষ্ণারমায়া,হয়তো সেসব মনে পড়ে না এখন;বিশ্বাস নিয়েই বেঁচে আছি আমরাবৃষ্টি আর বরষার সুরে সে আমার কল্পনায় ধূণে ওঠা নিজস্ব গোপনতা


০৪
হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত যারা পথিকের বেশে, আমাদের জানা হলো কথা---কীভাবে ফুলেফেঁপে ওঠে পথের গতিধারা রূপ আমাকে জাগিয়ে তুলেকলাগাছের বাকল আর শীতল জলের মায়া... সে পথেই ফুটে ওঠেপ্রত্নজটিলতা আর রমণীর পদধূলির ছাপ... আরো কিছু নুড়ি পাথরের কণা


০৫
তবুও বলি আমাকে বেঁধে নিও পথে. ওই পথহারা প্রাণে সে পথের ক্ষরণ থেকে বিভাজিত আমাদের হারানো পথের স্মৃতি আর জলভেজা ঠোঁটেরকথা। সে পথ থেকে সাধ করে আমি তুলে এনেছি আরো তিনটি শাদাপাথর, শেষ বিকেলের ছায়া-রোদ... শুনেছি তুমি সে পথের মাঝে পেতেরেখেছো সাতরঙা শাড়ির আঁচল