চারিদিকে স্ফূরণ, অবিরত ক্ষরণ…বিস্ফোরণ
কার লাগি লিখি এই রাত্রি বরিষণ
মূলত সুখটাই বাস্তব জেনে এগোলে পথ পদতলে পৃষ্ট হলো বরষাক্রান্ত রাত আমি প্রলম্বিত হয়ে কেবল দূরত্ব আঁকি—আর তুমি ক্রমশ ঘোর রাত্রিতে স্বপ্ন বুনে যেতে চাও অবিরত মোহে; ফলে ধনরত্নে গুঁজে দিলে মাথা কাল মুষলধারে বৃষ্টি হয়নি বলে ফিরে এলে তুমি— গতিপথে এঁকে দিলে সব স্তব্ধতা
♣♣
অবিরত খুলে নিতে দেহের শরম তুলে নিতে ঘ্রাণ যেন শস্যদানা অসময়ে গেয়ে যেতে শ্রীকান্ত-মৌসুমীর গান(আবার যেদিন তুমি সমুদ্র স্নানে যাবে… বৃষ্টি তোমাকে দিলাম) এখন সুরের মুর্ছনা অন্য পথে চলে— তাই রোদে গড়িয়ে পড়তো জল, কল্পনা যেন সমুদ্রস্নান; হেসে উঠতে তুমি স্বপ্ন নিয়ে বুকে, জ্বলে ওঠে ক্রোধ যেন তোমারই নিজস্বতা। দেহ থেকে খসে পড়ে ঘাস; বেদনাগুচ্ছ বুকে হেঁটে চলে অবিরাম-দেহ ছুঁয়ে দেখো কীভাবে চৈত্রে ঝরাপাতার মতো দেহ থেকে উড়ে যায় মর্মর সুর, তুমি না ছুঁলে দেহপোড়াযান
♣♣
রঙিন স্বপ্ন নিয়ে আকাশে উড়বে সে কথা বলনি কভু; ভালো নেই আমি—তবুও ভয় জাগে মনে, কেননা চেয়ে দেখো দূরে তোমার জন্য আঁকা দূরের বনে; স্বপ্ন নয়— নীরবতা। আকাশ ভর্তি কালো মেঘ কার চোখে ফোটে; তোমার চোখে ফোটে তাই বাতাস ভর্তি ছায়া। মাতাল আমিই সেজেছি তাই গাঢ় জলে পুড়ছে বুক জ্বলছে ঝাউবন, ।অপেক্ষা কেবল ফিরে আসা নিয়ে, সুতো ছিঁড়ে গেলে তো মুছবে না কভু কারো আঙুলের পোড়াক্ষতদাগ
♣♣
স্মৃতিঘোরে উড়ে যেও যদি দূরে ভাসে স্পর্শরীতি শুধু বুকের কাপড়টুকু বাদে সবটুকু উড়াতে করো না মানা— লক্ষ রাখো তোমার বুকে জমা রাখো আমারই স্পর্শে আঁকা পূর্ণিমার চাঁদ… কেননা ঘনঘোরে নির্ঝর বনে অধিকার অধিকার শুধু আমার; একার। তাই জলপূর্ণ কাঙ্ক্ষায় কেঁপে ওঠে দিঘীর পাড় দীর্ঘরাত্রির অপেক্ষা কেবল ক্ষয়ে-ক্ষয়ে যায় তবু তুমি খুঁজি ফিরো কালো চশমার ফাঁকে শূন্যতার ছায়া।
তাই দুরত্বে গেলে দেখো শংকিত দেহের ভাঁজে ফুলে ফেঁপে ওঠে দেহের হাজারো দীর্ঘশ্বাস
♣♣
জানি এগোলে পথ খোলা নেই; চোখে আঁক স্পর্শরীতি বাদে উপেক্ষিত রাত তাই দূরে দাঁড়ালে তুমি তিন হাত পরে— দূরে গেলে বলে যেও হাত রাখি কই, আঙুলের পোড়াক্ষত দেখনি আজো সে-কথা স্মরণে এলে তৃপ্তি ভেবে খেয়ে ফেলি সিগারেটের অবশিষ্ট ছাই। জানি পালাবার পথ খোলা নেই, তাই ডুবোরাত্রির কাছে তুমি ডুবে গেলে ডুবো সন্ধ্যা আমার। খড় কুঠুরি যাই ভাবিআসলে নির্জনতাই মূল; তুমি হারালে ভালো চাওয়া র’বেনা কভু স্বপ্ন একাকী পড়ে রবে দূর্বায়
♣♣
আমি লুকাবো বৃষ্টিপাত হলে কত আগেই বলেছি সেসব কথা ফলে তুমি লক্ষ রেখেছো হাতের স্বপ্ন; তাই গতিপথে কোথায় লুকিয়েছে তোমার দুটি পা।আমি স্মৃতি কুড়নোর আগে খুঁজেছি তোমায়; তুমি ভান ধরে হেসে
ছিলে দূরে— তাই ফের তাকালে দেখি তোমার বুকের বিষণ্ণতা এখনও কাটেনি— সহজ-সরল চোখ যেন শূন্যতায় ঠাসা। আর এখন যতসব ঘটে মনে হয় সবই ছিল বির্বতন স্মৃতি তবু; তবুও তোমার চোখে নেই জল বৃষ্টিপাত হলে আমিও আর কাঁদবো না
♣♣
বার-বার বলতে আমার আর সহ্য হয় না; আজোবধি জানা হলো না—
কে কার কাছে বাঁধা পড়ছি আগে; কতটুকু হয়েছি ঋণী— একটু বলো
সে-কথা শুনতে ভালো লাগতো খুব;কখনো বিব্রত বোধ করিনি বলতাম প্রশ্নের রহস্য কী খোলাসা করো— হেসে বলতে এই মনে করো সকাল-সন্ধ্যা; দুপুর কিংবা রাত জোক করে বলতাম তবে বাজি হয়ে যাক্ তুমি তা মানতে বার-বার নারাজ। অপারগ হলে বলতাম সবার
অধিকার একই রকম; সবাই একই বৃত্তে ঘুরে ফেরে চলে কিংবা মনে করো স্পর্শ পেলে লোভ বেড়ে যায়… দেহে কম্পন তুলে সমান-সমান
♣♣
কাচ, উড়ছে নিমপাতা পুড়ছে দেহ জাগা গাছ— তোমার স্বপ্নে ডালে ডালে দুলছে আধাপাকা আম। কারণ ছাড়াই বলে উঠতে হঠাৎ আমার শরীর ছুঁয়ে দেখো কাঁচা মাংশের গন্ধে ভাসছে বৃষ্টিবর্ষারাত। আমি তো রাত্রিকে জড়িয়েছি দেহের ভাঁজে;দেখবো পুরোটা মেঘে তবু যদি লোভাতুর চোখে কখনো জল তৃষ্ণা জাগে মেঘের গুঞ্জনে সোজাসুজি বসি তাই মৃদুকম্পনে হাসছে রোদ, কাঁপছে জানালা
♣♣
আমি কি জানতাম বৃষ্টিফোঁটায় জ্বলে যাবে স্মৃতি-লিখে নেবো চোখে
যত বদনাম। ডাল-পালায় উড়ে যাবে কথা; পাতায়-পাতায় ঝুলিয়ে দেবে দ্বিধাদ্বন্দ্ব যত সাথে তুলে নেবে মান-অভিমান। তবু রাগ করো না; ধুলোয় মিলে মিশে থাকো— হয়ত একদিন বৃষ্টিও রোদে ফেটে যাবে
আমিও সে-দিন জল কেটে লিখে নেবো রাত্রিকাহন
♣♣
চোখের শরম কি খেয়ে নিল কেউ একবার বুকে হাত রেখে বলো
ওজন করো; দেখো কার দেহে কত আছে ঘূর্ণিপাক। দেখো কার স্বাদ
কেমন লাগে; কার দেহে ফুটে আছে পোড়াক্ষতদাগ। তাই তুমিই বলো
এবছর কি ফিরে আসা ভালো— ফিরবে কি কেউ আমার মতো করে
ব্যর্থ অভিযোগ নিয়ে; তুমিও তো সব ছেড়ে চলে গেলে দূরে; পুড়ছি
তাই চৈত্রের তাপদাহ রোদে আমাকে ঘুমুতে দেয়নি তোমার বধু বেশে
বেজে ওঠা বিয়ের সানাই
♣♣
আমি গোপনে ধূপ জ্বেলে রাখি; স্মৃতি সব পোড়াই
ফলে খরস্রোতে মিশে পড়ো তুমি— আমি শুধু বাতাসের
শব্দ জপে বৃষ্টিকাঙ্খায় একা বসে থাকি। জানি স্বপ্ন
সাজাতে কেউ আসবে না আর… তোমার জন্য প্রতি রাতে
একটি করে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখি
No comments:
Post a Comment