Sunday, September 6, 2009

পথলিপি

ওই পথের রঙ ছুঁব কি ছুঁব না ভাবতে ভাবতে উড়ে গেল পদতল-মাটি আরজলভেজা বালির কথা তবুও বাঁধা পড়তে হলো শুকনো জল আর পিঁপড়েরনিকট এসে অথচ জলপতনের আগে আমাদের ডুবে যাবার কথা ছিলোঝোপজঙ্গলের পাশে, আর ওই পথ ছুঁব না বলেই তখনও আমরা খুঁজেছি বহুবর্ণ পথের ডাঁটা;তোমার কথা শুনে লতা পাতার মতো বোবা হতে থাকিস্বর্ণলতা গাছের মর্মরে...শুনেছি এখনও অতিযত্ন করে গুনে রাখো নীরবতাযেন পত্রলিপিতে কেঁপে ওঠে স্মৃতিপথটুকু...

০২
এখন তুমি পাথরের ফাঁকে হারিয়ে যেতে চাও, পথের সরুপথ ধরে হেঁটেচলো অর্ধনিমীলিত চোখের পাশে কথার মর্মটুকু জানার আগেই প্রস্তরলিপিটুকরো টুকরো করে দেখো কবিতার শরীর,আড়ালবর্তী মুখের আভা; আমিসে পথের ছিপি খুলে স্মৃতি পথ খুঁজি... খুঁজি ধূলিবালির শরীর; আর তুমি অতি যত্ন করে ছুঁড়ে দিলে একটুকরো ঘৃণার সংলাপ... তাই গৃহফেরারপথে হাঁটি, সাথে নিয়ে আসি সাধ করে কিছু নুড়ি পাথরের কণা


০৩
একদিন পথেরও ঘুম এলো চোখে আর আমি খুলতে চেয়েছি তোমারপথের শরীর--- লাফ দিয়ে ওঠে দাঁড়ালো চেনা সেই মুখ, জ্বলন্ত তৃষ্ণারমায়া,হয়তো সেসব মনে পড়ে না এখন;বিশ্বাস নিয়েই বেঁচে আছি আমরাবৃষ্টি আর বরষার সুরে সে আমার কল্পনায় ধূণে ওঠা নিজস্ব গোপনতা


০৪
হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত যারা পথিকের বেশে, আমাদের জানা হলো কথা---কীভাবে ফুলেফেঁপে ওঠে পথের গতিধারা রূপ আমাকে জাগিয়ে তুলেকলাগাছের বাকল আর শীতল জলের মায়া... সে পথেই ফুটে ওঠেপ্রত্নজটিলতা আর রমণীর পদধূলির ছাপ... আরো কিছু নুড়ি পাথরের কণা


০৫
তবুও বলি আমাকে বেঁধে নিও পথে. ওই পথহারা প্রাণে সে পথের ক্ষরণ থেকে বিভাজিত আমাদের হারানো পথের স্মৃতি আর জলভেজা ঠোঁটেরকথা। সে পথ থেকে সাধ করে আমি তুলে এনেছি আরো তিনটি শাদাপাথর, শেষ বিকেলের ছায়া-রোদ... শুনেছি তুমি সে পথের মাঝে পেতেরেখেছো সাতরঙা শাড়ির আঁচল

No comments:

Post a Comment